আরও দেখুন
শুক্রবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের সামান্য কারেকশনের প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হলেও তা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে মার্কিন ডলারের সার্বিক পরিস্থিতি এতটাই ইতিবাচক যে ট্রেডারদের দৃষ্টিতে অন্য কোনো বিষয় গুরুত্বই পাচ্ছে না। মার্কিন ডলারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মূল কারণ হলো মুদ্রানীতির ব্যাপারে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক কঠোর বা হকিশ অবস্থান গ্রহণ; যদিও তিনটি ধাপে আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার প্রক্রিয়ার প্রথমটি সম্পন্ন হওয়ার পর ইতোমধ্যে দেড় সপ্তাহ পার হয়ে গেছে এবং বৈঠকের আগেই ট্রেডাররা সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিল। ফলে ট্রেডাররা হয়তো আরও কয়েক মাস এই বিষয়টির ওপর ভিত্তি করেই প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকবে, কিন্তু এই প্রবণতাকে কি আদৌ "যৌক্তিক" বলা যায়? আমাদের মতে, না। এমনকি শুক্রবারও মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারত, কারণ ডিউরেবল গুডস অর্ডার সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ইতিবাচক ছিল। তবে ট্রেডাররা এখন অধিকাংশ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনকে উপেক্ষা করছেন এবং কেবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপরই মনোযোগ দিচ্ছেন। তাই ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার বিষয়টি ট্রেডাররা বর্তমানে বিবেচনায় নিচ্ছে না—অথচ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোজোন এবং যুক্তরাজ্যেও মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে কিংবা বেড়েই চলেছে।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। দিনের বেলায় এই পেয়ারের মূল্য দুইবার 1.3259–1.3267 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, যার ফলে ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ পান। দিন শেষে এই কারেন্সি পেয়ারের বড় ধরনের কোনো দরপতন দেখা না গেলেও, আজ এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি মূল প্রভাব বিস্তার করছে তা হলো, ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। তবে দেড় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ট্রেডাররা ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে অনুকূল বিষয়গুলোকে এখনো আমলে নিতে চাইছে না। তাই, মার্কেটে পরিলক্ষিত বর্তমান মুভমেন্টকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করি।
এই পেয়ারের মূল্য শুক্রবার 1.3259–1.3267 জোন অতিক্রম করে নিম্নমুখী হতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বজায় রাখতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3175–1.3180-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়ার উপর কনসলিডেট করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। সোমবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো তেমন কোনো বিষয় থাকবে না। আবারও মার্কেটে খুবই স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।