empty
 
 
21.01.2026 09:31 AM
২১ জানুয়ারি কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

This image is no longer relevant

বুধবারও অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এবং গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল আবারও উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি। মার্কেটের ট্রেডাররা এখনও গ্রিনল্যান্ড দ্বীপকে ঘিরে চলমান ঘটনাসমূহ পর্যবেক্ষণ করছে। আর্কটিক অঞ্চলে ট্রাম্পের প্রভাব বিস্তার করার আকাঙ্ক্ষা এবং দ্বীপটির বিস্তৃত ভূখন্ডে সেনাবাহিনী তেমন কোনো উপস্থিতি নেই এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকা কর্তৃক বলপ্রয়োগ করে অঞ্চলটি দখলের আশঙ্কা করছে। বছরের শুরুতে ট্রাম্প ইতোমধ্যেই দেখিয়েছেন যে তিনি লক্ষ্য অর্জনের জন্য সামরিক অভিযানকে একটি উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তবুও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইইউকে "চেতনায় ফেরার" সময় দিয়েছেন এবং স্বেচ্ছায় দ্বীপটি বিক্রি করার সুযোগ দিয়েছেন। পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য সহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের পণ্যের উপর অতিরিক্ত 10% শুল্ক আরোপ করা হবে, এবং পহেলা জুন থেকে আরোপিত শুল্কের হার 25% হবে। সুতরাং আগামী কয়েক মাসে দ্বীপটিতে আমেরিকার আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

বুধবারের সামষ্টিক প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যের বিজনেস-অ্যাক্টিভিটি সংক্রান্ত সূচকটি বেশ উল্লেখযোগ্য; এটির ফলাফল পরবর্তী বৈঠকে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। সে কারণে এই প্রতিবেদনের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে মার্কেটে লক্ষণীয় প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

This image is no longer relevant

বুধবার একটি ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট নির্ধারিত আছে। আজ ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড বক্তব্য দেবেন। মিস লাগার্ড ইইউ দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত নতুন শুল্ক নিয়ে মন্তব্য করতে পারেন, তবে তাঁর বক্তব্য সম্ভবত বাণিজ্য-বিরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি বার্ষিক ভিত্তিতে 1.9%-এ নেমে এসেছে; মুদ্রাস্ফীতি আরও হ্রাস পেলে ইসিবি সুদের হার হ্রাস করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

মনে রাখবেন যে ডলাকে এখনও বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে গণ্য করা যায়, কিন্তু সেই অবস্থান দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশ্বব্যাপী ডলারের উপর নির্ভরতা হ্রাসের প্রক্রিয়া চলছে, যদিও তা ধীরগতিতে হচ্ছে। ট্রাম্পের ভূ-রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাগুলো মার্কেটের ট্রেডারদের জন্য কোনো স্থিতিশীলতা বয়ে আনছে না। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে এখনও "কালো মেঘ" জমছেই। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে "যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়" হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং তিনি দ্বীপটিকে একটি নতুন অঙ্গরাজ্য হিসেবে আমেরিকার অংশ করে নিতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আমাদের মতে, পূর্বে মৌলিক পটভূমি ডলারের পক্ষে ছিল না, আর এখন তা আরও দুর্বল হচ্ছে।

উপসংহার:

সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যেরই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ ইউরো ও পাউন্ডের মূল্য গতকাল ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইনগুলো ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আজ 1.1745–1.1754 এরিয়ায় ইউরোর ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3437–1.3446 এরিয়ায় ট্রেড করা যেতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.