আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল এবং এমনকি এই পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলও অতিক্রম করেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কেবল স্থিতিশীলই নয়, বরং সময়ের সাথে সাথে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এই সপ্তাহে মার্কিন ডলারের ওপর সবচেয়ে বড় চাপটি এসেছে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক দীর্ঘমেয়াদী বন্ড বাইব্যাক কর্মসূচি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত থেকে; মূলত এটি একটি কোয়ান্টিটেটিভ ইজিং (QE) কর্মসূচি। কার্যকরভাবে, QE কর্মসূচিগুলো ফেডারেল রিজার্ভের মূল সুদের হার কমানোর সমতুল্য। এগুলোর লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা বা অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। তবে এই ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলার সবসময়ই দরপতনের শিকার হয়ে থাকে। সুতরাং, ডলারের দরপতনের কারণগুলোর তালিকায় আগে যেখানে ৬-৭টি বিষয় ছিল, এখন তার সাথে আরও একটি বিষয় যুক্ত হলো। আমরা এখনও এই পেয়ারের মূল্য অন্তত আরও 100 পিপস বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি; এরপরই দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হবে কি না, সেই প্রশ্নটি সামনে আসবে।
বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, তবে সেগুলোর বেশিরভাগই কাজে লাগানো বেশ কঠিন ছিল। 1.3631-1.3641 এরিয়া থেকে কোনো স্পষ্ট সিগন্যাল পাওয়া যায়নি এবং শীঘ্রই এই পেয়ারের মূল্য পুনরায় এই এরিয়ায় পৌঁছাতে পারে। তাই, আমরা কেবল প্রথম তিনটি 'বাই' সিগন্যালকে গুরুত্ব দিতে পারি, যা থেকে কয়েক ডজন পিপস মুনাফা অর্জিত হয়েছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কিন ডলারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। শুধুমাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের নিচে এই পেয়ারের মূল্য়ের কনসলিডেশন হলে এই পেয়ারের দরপতনের প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3631-1.3641 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3631-1.3641 এরিয়ার উপরে কনসলিডেট করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3695-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, 1.3741।শুক্রবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সার্ভিস ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতভিত্তিক বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সূচক এবং রিটেইলস সেলস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যদিও এই সপ্তাহে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কেটে খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি, তবুও আমরা যুক্তরাজ্যে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছি।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।