empty
 
 
21.08.2026 09:35 AM
২১ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ে EUR/USD কারেন্সি পেয়াররের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় ছিল এবং মূল্য 1.1665-এর উপরে অবস্থান করেছে এবং শুক্রবার ভোররাতেও আরও মূল্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সামগ্রিকভাবে, একটি শক্তিশালী প্রবণতার ক্ষেত্রে বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্রটি বেশ স্বাভাবিক: প্রথমে মূল্য দৃঢ়ভাবে বৃদ্ধি পায়, তারপর সামান্য কারেকশন হয় এবং পুনরায় মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে শুরু করে। উল্লেখ্য যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট খবর, ইভেন্ট বা প্রতিবেদনের প্রত্যক্ষ সহায়তা ছাড়াই ইউরোর মূল্য বাড়তে পারে। কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে, এর পেছনে আসলে কয়েকটি কারণ রয়েছে—এবং সেগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা বারবার এমন সব কারণের কথা উল্লেখ করেছি যা মার্কিন ডলারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে চলেছে; তবে সেগুলোকে একটি মূল বিষয়ের আওতায় আনা যায়: ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন দুর্বল ডলার, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের নমনীয় মুদ্রানীতি। এই বিষয়গুলোই মার্কিন ডলারের দরপতনে ভূমিকা রাখে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর তালিকা করা এখানে নিষ্প্রয়োজন। ২০২৬ সালে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মার্কিন ডলারের জন্য একটি সহায়ক বিষয় ছিল। কিন্তু অন্যান্য নেতিবাচক কারণের বিপরীতে এই বিষয়টি সবসময় মার্কিন ডলারকে সহায়তা করতে পারবে না।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে, এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সহায়তা না থাকলেও। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কেটের ট্রেডাররা ইউরোর পক্ষে থাকা প্রায় সব ইতিবাচক কারণ উপেক্ষা করেছে, তাই এখন আমরা ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি।

শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1584-1.1594-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1665 এরিয়া অতিক্রম করে ঊর্ধ্বমুখী হলে লং পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1366-1.1377, 1.1461-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1665, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837। শুক্রবার ইউরোজোন, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সার্ভিস ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতভিত্তিক বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সূচক প্রকাশিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিতব্য সূচকগুলো উপেক্ষা করা যেতে পারে, তবে ইউরোপীয় সূচকগুলোর ফলাফল মার্কেটে সামান্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.