আরও দেখুন
বুধবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনও রয়েছে। আমরা ইউরোজোনের জুন মাসের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন দিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারি। গতকাল জার্মানির ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) কমে ২.৩%-এ নেমে এসেছে এবং আজ ইউরোপের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হার কমে ৩%-এ চলে আসতে পারে। এমনটা ঘটলে ২০২৬ সালে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, যা ইউরোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আজ এডিপি শ্রমবাজার বিষয়ক প্রতিবেদন এবং আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং সূচক প্রকাশিত হবে। আমাদের ধারণা, এডিপি প্রতিবেদনের প্রতি ট্রেডাররা খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখাবে না, কারণ ট্রেডাররা মূলত 'নন-ফার্ম পেরোলস' প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে; তবে আইএসএম থেকে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনের ফলাফল কারেন্সি মার্কেটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে অ্যান্ড্রু বেইলি, ক্রিস্টিন লাগার্দ এবং কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। তিনটি মূল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানই যে মুদ্রানীতি ও এ সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই, তবে এমনটা প্রত্যাশা করা যেতে পারে। বর্তমানে ট্রেডাররা মূলত ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন পদক্ষেপের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, তাই ওয়ার্শের ভাষণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফেড বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বাড়ানোর প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে; তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকাংশে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং খোদ ওয়ার্শের ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে এমন কোনো উদ্দেশ্যে নিয়োগ দেননি যাতে তিনি মুদ্রানীতি কঠোর করেন। তাই এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে, খোদ ফেডের তুলনায় ট্রেডাররা বর্তমানে মুদ্রানীতি হকিশ বা কঠোর করার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটি এখনও ধারাবাহিকভাবে "শর্তসাপেক্ষে ইতিবাচক" রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে; তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে "পারমাণবিক ইস্যু", লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তাত্ত্বিকভাবে, ট্রেডাররা হয়তো পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করতে পারে, কিন্তু মার্কিন ডলারের চাহিদা বজায় রাখার জন্য কেবল এই কারণটিই যথেষ্ট নয়। সর্বোপরি, তেহরান ও ওয়াশিংটন এখনো শান্তি স্থাপনের পথেই রয়েছে এবং আলোচনা চলছে—যদিও কেউ আশা করছে না যে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত বা সহজ হবে।
চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, বড় ধরনের দরপতনের পর উভয় প্রধান কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের 'কারেকশন' প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকতে পারে; তবে আজ মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এগুলোর মুভমেন্টকে প্রভাবিত করতে পারে। ইউরো 1.1420-1.1432 এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3259-1.3267 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। গত দুই সপ্তাহে ট্রেডাররা অযৌক্তিকভাবে মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে, যা বিক্রেতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী এক ফাঁদে পরিণত হতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।