empty
 
 
22.06.2026 07:52 AM
২২ জুন কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবারের ট্রেডিং সেশনে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের সামান্য পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে ইউরোর উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যাচ্ছে না। দুর্ভাগ্যবশত, গত সপ্তাহেও ইউরোর দরপতন ঘটেছে। হায়ার টাইমফ্রেমে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকা সত্ত্বেও ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে ইউরোর মূল্যের নতুন প্রবণতা শুরু হচ্ছে না। গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ ট্রেডারদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি "হকিশ বা কঠোর" অবস্থান গ্রহণ করায় মার্কিন ডলারের মূল্যের তীব্র উত্থান হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে ট্রেডাররা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে একরকম উপেক্ষা করেছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার স্বাক্ষরিত চুক্তি মার্কিন ডলারের উপর কোনো চাপ সৃষ্টি করেনি, অথচ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আরেকবার লঙ্ঘন, আলোচনার সম্ভাব্য বিঘ্নতা এবং পুনরায় সংঘাত তীব্র হওয়ার হুমকির বিষয়টি মার্কিন ডলারের পক্ষে কাজ করেছে। অর্থাৎ, ট্রেডাররা মূলত ইউরোর জন্য ইতিবাচক সব খবরকে উপেক্ষা করে এবং মার্কিন ডলারের পক্ষে থাকা খবরের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এজন্যই আমরা গত সপ্তাহে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির অযৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। মার্কিন ডলারের মূল্যের উত্থান এ পর্যায়ে ইতোমধ্যে শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। শুক্রবার কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। সেদিন ভোররাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1455-1.1474 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করেছিল, কিন্তু ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশন শুরু হওয়ার সময় পর্যন্ত এই পেয়ারের মূল্য সিগন্যাল গঠনের পয়েন্ট থেকে যথেষ্ট দূরে সরে গিয়েছিল। সুতরাং ট্রেডে এন্ট্রির জন্য তখন দেরি হয়ে গিয়েছিল। পরে এই পেয়ারের মূল্য আবার 1.1455-1.1474 রেঞ্জে ফিরে আসে এবং দিনের বাকি সময় সেখানে অবস্থান করে।

সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে পুনরায় এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ট্রেডারদের কাছে মার্কিন ডলার ক্রয়ের কারণ কমে গেছে। তবু চুক্তিটি যেকোনো মুহূর্তে ভেস্তে যেতে পারে, যেহেতু ইসরায়েল ও লেবানন একে অপরের উপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে—এবং ট্রেডাররা এখনো ইউরোর জন্য ইতিবাচক বিষয়গুলো উপেক্ষা করছে।

সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1455-1.1474 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1413 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1455-1.1474 এরিয়ার উপরে কনসলিডেট করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1527-1.1531 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1292, 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837। সোমবার ইইউতে ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডে একটি বক্তৃতা দেবেন এবং সেটাই দিনের একমাত্র ইভেন্ট। ইসিবির বৈঠকের দেড় সপ্তাহ পর লাগার্ডে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য প্রদান করবেন এমন সম্ভাবনা বেশ কম।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.