empty
 
 
24.02.2026 08:06 AM
২৪ ফেব্রুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

সোমবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের বেশ কিছুটা ওঠানামা পরিলক্ষিত হয়েছে। দিনের মধ্যভাগে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট বা প্রতিবেদন না থাকায় মার্কেটের সামগ্রিক পরিস্থিতির এই তীব্র পরিবর্তনের কারণটি কিছুটা অস্পষ্ট। উল্লেখযোগ্য যে শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে 15% শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা করেছিলেন (যা বাণিজ্য আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ স্তর), এবং মার্কেটের ট্রেডাররা এখনও পুরনো শুল্ক বাতিল ও নতুন 10% শুল্ক প্রবর্তনের তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। তাই মার্কেটে ট্রেডিং সেশন শুরু হওয়ার পর পরিলক্ষিত ডলারের দরপতন যথার্থ মনে হলেও পরে এটি আবারও "সকল দরপতন" পুনরুদ্ধার করেছে। কেবল এটুকুই বলা যায় যে কোনো কারণ ছাড়াই ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। আবারও সেই একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এবার কেবল মৌলিক ও সামষ্টিক প্রেক্ষাপট (শুক্রবারের মার্কিন জিডিপি প্রতিবেদন) মার্কিন ডলারের জন্য প্রতিকূল ছিল না, টেকনিক্যাল চিত্রও ইতিবাচক ছিল না—গতকাল ইউরোর মূল্য ডিসেন্ডিং চ্যানেলের উপরের বাউন্ডারি ব্রেক করেছিল, যা নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি নির্দেশ করে। তবু দেখা যাচ্ছে বর্তমানে মার্কেটের ট্রেডাররা কোনো কিছুর প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না এবং কেবলই EUR/USD পেয়ার বিক্রি করে চলেছে।

EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

This image is no longer relevant

সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি কার্যকর ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। গভীর রাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে, এবং ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের সময় পুনরায় বাউন্স ঘটে। ফলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার জন্য একটি দুর্দান্ত সুযোগ পেয়েছিল। সারাদিন এই পেয়ারের 25-35 পিপস দরপতন ঘটেছে, যা সহজেই মুনাফায় রূপান্তর করা যেত।

মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী কারেকশনের সমাপ্তি ঘটেছে, কারণ এই পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং চ্যানেলের উপরে কনসোলিডেশন করেছে; তবে এখনও কোনো দৃশ্যমান মূল্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। 2026 সালের শুরু থেকে পুনরায় একটি দীর্ঘমেয়াদি উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, তাই আমরা নতুন করে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিক মৌলিক প্রেক্ষাপট এখনও মার্কিন ডলারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং, তাই আমরা এই পেয়ারের মূল্যের আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করছি।

মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়ার নিচে মূল্য কনসোলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1666 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ থাকবে, যেখানে মূল্যের 1.1830-1.1837 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104। আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমবাজার সংক্রান্ত সাপ্তাহিক ADP প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা ট্রেডারদের জন্য ততটা প্রাসঙ্গিক নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইভেন্ট ক্যালেন্ডারে আজ তেমন কিছু অন্তর্ভুক্ত নেই। আজ আবারও এই পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.